২০২৬ সালেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে শিল্পের উন্নয়নের দিকে নজর দিতে চাইছে রাজ্য সরকার। পুজোর পরই রাজ্যে একটি শিল্প সম্মেলনের আয়োজন হবে। মঙ্গলবার এই কথাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্র। কেন এই শিল্প সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে, তা-ও জানান তিনি।
মঙ্গলবারের সাংবাদিক বৈঠকে অমিতের সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, অর্থসচিব প্রভাতকুমার মিশ্র এবং শিল্পসচিব বন্দনা যাদব। রাজ্যের শিল্পের উন্নয়নের গতি বৃদ্ধি করতেই শিল্প সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান অমিত। কী ভাবে প্রকল্পগুলি বেছে নেওয়া হয়েছে, তা-ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়।
অমিত বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রকল্প নির্বাচন করতে গিয়ে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যে সব শিল্পের বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশি, যেগুলি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, রফতানি বৃদ্ধিতে সহায়ক এবং যেগুলির ক্ষেত্রে রাজ্যের প্রাকৃতিক বা ভৌগোলিক সুবিধা রয়েছে— সেই সব বিষয় বিচার করেই প্রকল্পে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।’’
নজরে থাকা সাতটি শিল্পক্ষেত্র হলো ইস্পাত, জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি, তথ্যপ্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, পর্যটন এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সরঞ্জাম। এই শিল্পগুলির বাজার রয়েছে। রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি রপ্তানিতে উৎসাহ দেওয়া ও রাজস্ববৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারে এই সাত ক্ষেত্র। শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগের প্রস্তাব বাস্তবায়নে সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ করাই কমিটির মূল কাজ। ৩ হাজারেরও বেশি বিনিয়োগ প্রস্তাবের সমস্যা সমাধান করে ইতিমধ্যেই ছাড়পত্র দিয়েছে কমিটি। ৩ হাজার ১৬৫টি ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বিনিয়োগ দ্রুত রূপায়ণের অনুমোদনও করেছে।
অনেকের মতে, আগামী বছর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সেই কথা মাথায় রেখেই রাজ্যের শিল্পের উন্নয়নে দিশা দেখাতে ও বিনিয়োগকারীদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিল্পায়নের এই প্রয়াস রাজ্যের আর্থিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে, এমনই আশা করছে নবান্ন।

Leave a comment