রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া এবার কসবার হালতুর পরেশ মজুমদার রোডে। বেশ কয়েকদিন ধরে দিদির দেহ আগলে রেখেছেন বোন ! এমনটাই অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃতা ৭৭ বছরের বৃদ্ধা পূরবী নস্কর ।
দোতলায় থাকতেন দিদি ও বোন, একতলায় থাকেন ভাই । বোনের থেকে দিদির মৃত্যুসংবাদ পান ভাই, দাবি স্থানীয়দের। কসবা থানার পুলিশ এসে ঘর থেকে দিদির পচাগলা দেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ভাই মানসিক ভারসাম্যহীন দুই দিদিকে ঠিকমতো দেখাশোনা করতেন না। স্থানীয় সূত্রে খবর, মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার কারণে দিদিদের প্রতি অবহেলা ছিল ভাই ও তাঁর পরিবারের।
কোনও রকম যত্ন করতেন না। তবে এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু কেন ঘটল এবং কলকাতার বুকে আবার রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া কেন দেখা গেল তার প্রকৃত উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ, তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না এলে পরিষ্কারভাবে বলা যাচ্ছে না কতদিন আগে মৃত্যু এবং কিভাবে মৃত্যু হয়েছে।পুলিশ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জেরা করছে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর পর মৃতদেহ আগলে রাখার ঘটনা শহর ও শহরতলী তে বেড়েই যাচ্ছে।
মনস্তত্ত্ববিদদের অভিমত, আর্থিক অনটন একাকী জীবন যাপন এইধরণের মানসিকতা গড়ে তুলেছে। একাকী দীর্ঘদিন থাকার জন্যে পরিবেশের সাথে দূরত্ব বেড়েছিল।
পাড়া-প্রতিবেশী আত্মীয়- স্বজনদের থেকে দূরে সরে গিয়ে নিজেকে আর পার্শ্ববর্তী যাঁরা থাকছেন তাকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে এক পৃথক জগৎ। যার দরুন মৃত্যুর মতো বেদনাদায়ক ঘটনা তাদের মানসিকতাকে টলাতে পারছে না।

Leave a comment