যা ঘটেছে তা একেবারেই কাম্য নয়। এয়ার ইন্ডিয়ার এআই১৭১ এর দুর্ঘটনা অবশ্যই একটি বিরাট বিপর্যয়। বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে চলছে তদন্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে একটি বা উভয় ইঞ্জিনের বিপর্যয় প্রধান কারণ হলেও অনেক সিনিয়র পাইলট এই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দেখছেন ‘বিদ্যুত সিস্টেমের ব্যর্থতা’। আসলে বোয়িং ৭৮৭ একটি ‘মোর ইলেকট্রিক এয়ারক্র্যাফট’ যা ঐতিহ্যবাহী হাইড্রলিক এবং নিউমোটিক সিস্টেমের পরিবর্তে একটি বৈদ্যুতিক সিস্টেমের উপর ভিত্তি করে তৈরি। যার উদ্দেশ্য বিমানটিকে হালকা ও জ্বালানি সাশ্রয়ী করে তোলা। কিন্তু এটার জন্যই কোনও বিপদ হয়েছে কিনা সেটাই হ’ল সন্দেহের বিষয়।
ফ্লাইটের অন্তর্গত VFSG সিস্টেম হ’ল বিমানের একটি সাব সিস্টেম। যা ইঞ্জিন স্টার্টার ও জেনারেটরের কাজ করে। এর ফলেই বিমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ করছেন, বিস্ফোরণে যে শব্দ সৃষ্টি হয়েছিল তা এর থেকেই হয়েছিল। এরফলে দু’টো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ১। হয় বিমানটির ইঞ্জিতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়েছিদ নতুবা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হমে গিয়েছিল।
এর পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয় তা পাইলটের হাতের বাইরে চলে যায়। এর ফলেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ইঞ্জিনটি ত্রুটিপূর্ণ ছিল?
দুই-ইন্জিন বিশিষ্ট বিমান বিপর্যয়ের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় তাহলে দেখা যাবে এরকম ৭ টি ঘটনা রয়েছে। এর সঙ্গে বেশির ভাগই পাখির সঙ্গে ধাক্কা, ভুলবশত ইঞ্জিন বন্ধ বা জ্বালানির সমস্যা। পাকির সঙ্গে ধাক্কা লাগার বিষয়টি ইতিমধ্যেই উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আহমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনায়। এখন প্রশ্ন উঠছে বিমানটিতে কি জ্বালানির সমস্যা ছিল? না কি ভুল করে ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
বিস্ফোরণের শব্দটি আসলে কী সেই প্রশ্নের উত্তরে একজন সিনিয়র পাইলট বলেন যে ঐ শব্দ ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ারই ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু এটাও ভেবে দেখা উচিত হঠাৎ করেই বিমানটি এত দ্রুত পড়ে কেন গেল? এমনও হতে পারে পাইলটদের ভুলে সঠিক ইঞ্জিনটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
যেমন, গিয়ারের বদলে ফ্ল্যাপ রিঅ্যাক্ট করা হয়েছিল। যদি একটিও ইঞ্জিন কাজ করত তাহলেও বিমানটিকে ফিরিয়ে আনা যেত। সুতরাং সম্ভাবনার তীর সেই ‘ভেরিয়েবল ফ্রিকোয়েন্সি স্টার্টার জেনারেটর’ (VFSG) – দিকেই যায়।
DGCA -র প্রাথমিক নিরাপত্তা নির্দেশিকাগুলি থেকেও জানা যায় বিমানে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় কিছু সমস্যা ছিল।
অন্যদিকে বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন অমিত সিং অতিরিক্ত মাল বোঝাইকে দায়ী করেছেন।

Leave a comment