মেঘালয়ে হানিমুনে গিয়ে খুন হন মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের বাসিন্দা রাজা রঘুবংশী। হানিমুন করতে গিয়েই মেঘালয়ের সোহরা এলাকা থেকে নিখোঁজ হন নবদম্পতি।কয়েকদিনের মধ্যেই উদ্ধার হয় ইনদৌরের যুবকের মৃতদেহ। কিন্তু কোথায় গেলেন স্ত্রী সোনম? তিনি কি বেঁচে আছেন? নাকি রয়েছেন কোনও বড় বিপদে?

নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল সকলের মনে। পরিবারের অভিযোগ ছিল, হয়ত কোনও চক্র বাংলাদেশে পাচার করে দিয়েছে তাদের মেয়েকে।অবশেষে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য ভেদ করল পুলিস।জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর থেকে স্ত্রী সোনম ও রঘুবংশীকে খুঁজে পায় পুলিশ। তাঁকে জেরা করে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। জানা গিয়েছে, হানিমুনে গিয়ে স্বামীকে খুন করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল সোনমের। সে জন্য রীতিমতো ভাড়াটে খুনিদের সাহায্য নিয়েছিলেন তিনি।

রাজাকে খুনের পরে লুকিয়ে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে। এই খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।সোমবার পুলিস আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, শনিবার রাতে গাজিপুরে একটি ‘ধাবা’ থেকে সোনমকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসার জন্য তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হাসপাতালে। সেখানে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।স্বামীকে খুনের দায়ে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিস।

খবরে প্রকাশ, রাজ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ২৪ বছর বয়সী সোনমের। সে কারণে হানিমুনে গিয়ে স্বামীকে খুনের ছক করেছিলেন তিনি। নিয়োগ করেছিলেন ভাড়াটে খুনি । তবে পালিয়ে গিয়েও শেষ রক্ষা হল না।মেঘালয় পুলিসের ডিজি জানিয়েছেন, সোনামকে গ্রেপ্তারের পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাতারাতি আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে পাকড়াও করা হয়েছে উত্তরপ্রদেশ থেকে। বাকি দু’জনকে ইন্দোর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ধৃতরা পুলিসের কাছে স্বীকার করেছে যে, স্বামীকে খুনের জন্য সোনম তাদের ভাড়া করেছিলেন।মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা টুইট করে জানিয়েছেন, ইনদৌরের যুবক রাজার হত্যা মামলায় মেঘালয় পুলিশ একটি বড় সাফল্য অর্জন করেছে। এই ঘটনায়, মধ্যপ্রদেশের তিন জন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

স্ত্রী সোনম নিজেই আত্মসমর্পণ করেছেন। অন্য একজন আক্রমণকারীকে গ্রেফতারের অভিযান এখনও চলছে।মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা টুইট করে জানিয়েছেন, ইনদৌরের যুবক রাজার হত্যা মামলায় মেঘালয় পুলিশ একটি বড় সাফল্য অর্জন করেছে। এই ঘটনায়, মধ্যপ্রদেশের তিন জন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

স্ত্রী সোনম নিজেই আত্মসমর্পণ করেছেন। অন্য একজন আক্রমণকারীকে গ্রেফতারের অভিযান এখনও চলছে।এনডিটিভির রিপোর্ট অনুযায়ী, ভাকুপর বনশাই নামের স্থানীয় এক ট্যুর গাইড পুলিশকে জানান, মাওলাখিয়াত থেকে নোনগ্রিয়াট পর্যন্ত ট্রেকিংয়ে তিনিই নিয়ে গিয়েছিলেন দম্পতিকে। প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগেছিল। এরপর তাঁরা হোমস্টেতে ফিরে যান। পরদিন তাঁরা গাইড নিতে চাননি। বলেছিলেন,এই রাস্তা তাঁদের চেনা। সেদিনই শেষ যখন তাঁদের দেখা যায় সঙ্গে ছিল আরও তিন পুরুষ। এরা কারা, এই প্রশ্নটাই খেলে যায় পুলিশের মাথায়।

আরও চুলচেরা তদন্ত শুরু হয়।সম্প্রতি, সোনম রঘুবংশীর মা এই ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করেন। বলেন, “আমরা চাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিবিআই তদন্ত শুরু হোক যাতে আমার মেয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়ি ফিরে আসতে পারে। মা আকুল হয়ে বলেন, পরিবারের সদস্যরা মেয়ের সম্পর্কে কিছু তথ্য পেতে টিভির সামনে বসে আছেন, কিন্তু কোনও খবর পাওয়া যাচ্ছে না।

Leave a comment