রাজ্যে ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত ১০৬ জন। রাজ্যে মোট করোনা সংক্রমণ বেড়ে হ’ল ৫৩৮ জন। গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ৬১ জন। দেশে ৭ জন গত ২৪ ঘন্টায় মারা গিয়েছে। এর মধ্যে দিল্লির একটি পাঁচ মাসের শিশুও আছে। তাকে নিয়ে দিল্লিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২ জন।
দেশজুড়ে আবার বাড়ল করোনা সংক্রমণ। বর্তমানে দেশে মোট আক্রান্তদের সংখ্যা ৪ হাজার ৮৬৬ জন। সর্বোচ্চ করোনা আক্রান্ত রাজ্য কেরালা। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৮৭ জন। এরপর দিল্লিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৬২ জন। গোটা দেশে আক্রান্তের নিরিখে বাংলা তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
কিন্তু অভিজ্ঞদের মতে করোনার এই রূপগুলি ততটা গুরুতর না। বর্তমানে LF.7 এবং NB.1.8 রূপগুলিই প্রধান। এগুলি JN.1 এর রূপ। JN.1 হ’ল ওমিক্রন BA.2.86 এর বংশধর।
উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে কলকাতায় এক শিশু করোনা আক্রান্ত হয়ে পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। উপসর্গ রয়েছে তার মা’র দেহেও। এখনও পর্যন্ত রিপোর্ট আসেনি। ক্যালকাটা মেডিক্যাল রিসার্চ ইন্সটিটিউট – এও কয়েকজন আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন। এরমধ্যে মধ্যবয়স্ক একজনের অবস্থা সংকটজনক। এমনটাই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। গত রবিবার ৪৩ বছরের এক আক্রান্ত মহিলার মৃত্যু হয়েছে সেই হাসপাতালে।
চিকিৎসকদের মতে করোনার এই স্ট্রেইন আগের চেয়ে অনেকবেশি সংক্রামক। উপসর্গ হিসেবে দেখা যাচ্ছে গলা ব্যাথা, সর্দি-কাশি-জ্বর, গা-হাত-পা’র পেশিতে যন্ত্রণা। অনেক ক্ষেত্রে পেট ব্যাথা বা পেট খারাপও দেখা যাচ্ছে উপসর্গ হিসেবে।
প্রশাসনের তরফে এই সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে জোর দেওয়া হচ্ছে সচতনতামূলক বিভিন্ন কাজে। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম আতঙ্কিত না হওয়ার আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, কোভিড পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছে সরকার। পরীক্ষার নমুনা ও তার ফলাফল সহ সবরকম তথ্য সরকারি হাসপাতাল ও ল্যাবকে স্বাস্থ্যভবনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন গোষ জানিয়েছেন, “সর্দি-কাশি-জ্বর হ’লে তাদের পরীক্ষা করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রিপোর্ট পজিটিভ আসবে। যাঁরা কলকাতায় আক্রান্ত তাঁরা কেউ সংকটজনক অবস্থায় নেই। যে ৩ শতাংশ মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাঁদের অধিকাংশই বয়স্ক। চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হচ্ছেন তাঁরা। এর সঙ্গে তিনটি পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, ১. আতঙ্কিত না হতে, ২. মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে এবং ৩. ভিড় এড়িয়ে চলতে।

Leave a comment