পাশকুঁড়া: সপ্তম শ্রেণীর ঐ কিশোর চিপস চুরির অপবাদ সহ্য করতে না পেরে আত্মহননের পথ বেঁছে নেয় । যাওয়ার আগে লিখে গিয়েছিল,”মা আমি বলে যাচ্ছি কুড়কুড়েটা রাস্তার ধারে কুড়িয়ে পেয়েছিলাম, চুরি করিনি।” তার লেখা হৃদয়বিদারক এই সুইসাইড নোটটি ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে।

দোকানের সিসিটিভি ফুটেজেও প্রমাণ হয় যে সে চিপসের প্যাকেট চুরি করেনি। স্থানীয়দের দাবি এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করতে হবে। ছেলেটি হাসপাতালে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকারপর না ফেরার দেশে চলে যায়। তারপরেই ক্ষুব্ধ জনতা চড়াও হয় দোকানদার শুভঙ্কর দীক্ষিতের বাড়ি।

বেগতিক দেখে পালিয়ে যায় ঐ দোকানদার। জানা যায় তিনি সিভিক ভলিউন্টিয়ারও। বিক্ষুব্ধ জনতা শুভঙ্করের বাড়ি ভাঙচুর করতে শুরু করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়। এই ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এই ঘটনার জেরে শনিবারও এলাকায় চলে পুলিশের টহলদারি। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান যান ঐ বালকের বাড়িতে বালকের মা বাবার সঙ্গে দেখা করার জন্য। পঞ্চায়েত প্রধান বলেন, এই ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া জরুরি। ৪৮ ঘন্টা পরেও থানায় দায়ের করা হয়নি কোনও লিখিত অভিযোগ।

মৃত ছাত্রের সৎ বাবা জগন্নাথ বেরা বলেন, “অভিযোগ করব কি না ভাবছি।” অন্যদিকে মৃত কৃষ্ণেন্দুর মা’র বক্তব্য, “আমার ছেলে চুরি করেনি। দোকানের বাইরে রাস্তায় পড়ে থাকা চিপসের প্যাকেট নিয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজেও তা পরিষ্কার। শুভঙ্কর ওকে চোর চোর বলে অনেকটা পথ ধাওয়া করে এবং সকলের সামনে কান ধরে ঐঠবোস করতে বাধ্য করে। শুভঙ্করের বিরুদ্ধে অবশ্যই অভিযোগ জানাবো। ওর কঠোর শাস্তি চাই।”

এই ঘটনায় সরব হয়েছে জেলা নাগরিক সুরক্ষা কমিটি। তারা ই-মেইল মারফত জেলা পুলিশ সুপারের কাছে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীর কঠোর শাস্তির আবেদন জানিয়েছে।

Leave a comment