বিএসএফ জওয়ান পূর্ণম কুমার সাউ-কে সঙ্গে নিয়ে তাঁর স্ত্রী রজনী সাউ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে চান। পেহেলগাম কান্ডের পর বিএসএফের তল্লাশি অভিযানে ভুলবশত পাকিস্তানের সীমায় ঢুকে পড়েছিল পূর্ণম কুমার। এরপরেই পাকিস্তান সেনার হাতে বন্দী হন এই বিএসএফ জওয়ান। একটা সময় পর তাঁকে ফিরে পাওয়ার সমস্ত আশা ছেড়ে দিয়েছিল তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রজনী ও তাঁর গোটা পরিবার।
উপায় না পেয়ে শেষ চেষ্টা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলতে চান রজনী। তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি সমস্ত রকম চেষ্টা করবেন পূর্ণম কুমার কে দেশে ফেরানোর জন্য। এরপর ভারত-পাক সীমান্তে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং এর পর মুক্তি দেওয়া হয় পূর্ণমকে। দীর্ঘ এক মাস পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে বন্দী থাকার পর গত ১৪ তারিখ দেশে ফেরেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার নিজের বাড়ি ফিরেছেন পূর্ণম। আজ শনিবারও পূর্ণম সাউয়ের বাড়ি কার্যত আনন্দোৎসবে পরিণত হয়েছে। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত হয়েছিলেন পূর্ণমের বাড়িতে। জওয়ানকে নিজে হাতে উত্তরীয় পরিয়ে বুকে জড়িয়ে নেন তিনি।
এদিন তাঁর স্ত্রী রজনী জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন। যখন পাক-সেনার হাতে বন্দী ছিলেন পূর্ণম তখন বেশ কয়েকবার রজনীকে ফোন করে খোঁজ খবর নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৪ তারিখ যেদিন পূর্ণম দেশে ফেরেন সেদিন মুখ্যমন্ত্রী রজনীকে ফোনে পূরৃণমকে ‘আমার ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। এইসব কথা বলতে বলতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রজনী। তিনি জানান সুযোগ হলে পূর্ণমকে সঙ্গে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাবেন।
তবে এই পরিস্থিতিতেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পূর্ণম সাউ বলেছেন, “সবাই আমার জন্য প্রার্থনা করেছেন। তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। প্রশিক্ষণের সময় আমাদের শেখানো হয় ভয় পেতে নেই। পাকিস্তান আমাদের সবসময় টার্গেটে থাকে।”

Leave a comment