পার্বতী বাউল যিনি বাউল গানের জগতে সমগ্র বিশ্বে জনপ্রিয়। সেই মানুষটি এর আগে বহুবার বিভিন্ন দেশে বাউল গানের আসর মাতিয়ে আসলেও অপমানিত হলেন আমেরিকায়।

সেখানে তাঁকে অনুষ্ঠান করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন আমেরিকার স্বনামধন্য সঙ্গীতশিল্পী জর্জ ব্রুকস। চলতি মাসেই সানফ্রান্সিসকোতে এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। একই মঞ্চে গানের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ থাকলেও গত ১৮ মে বিমানবন্দরে পার্বতী বাউলকে আটকে দেন সে দেশের ইমিগ্রেশন অফিসাররা।

পার্বতী বাউল জানিয়েছেন, তাঁর কাছে বৈধ ভিসা এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র ছিল। কেবলমাত্র সন্দেহের বশেই তাঁকে সে দেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং আগামী পাঁচ বছর যাতে সে দেশে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞাও চাপানো হয়েছে। পার্বতী বাউল দাবি করেন, যে আধিকারিক সীমান্তে অভিবাসন সংক্রান্ত দায়িত্বে ছিলেন তাঁর সন্দেহ হয়, পার্বতী বাউল জীবিকার কারণে পাকাপাকি ভাবে থেকে যেতে পারেন আমেরিকায়। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়‌।

পার্বতী এও জানান, তাঁর পাসপোর্ট দেখলেই বোঝা যায় যে তিনি সারা পৃথিবীতেই ডাউল গানের অনুষ্ঠান করে বেড়ান গত ২৫ বছর ধরে। কোনও দেশে গিয়ে সেই দেশের রাষ্ট্রীয় আইন পর্যন্ত ভাঙেননি তিনি।

মূলতঃ এই পদক্ষেপকে তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ব্যাক্তি আক্রমণের নজরেই দেখছেন পার্বতী বাউল। ভবিষ্যতে গানের তাগিদে সে দেশে যেতে হলেও তিনি আইনি পদক্ষেপ নিয়েই যাবেন বদে জানিয়েছেন পার্বতী বাউল।

প্রসঙ্গত, গত মাসে অভিবাসন নীতি নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে ‘হোয়াইট হাউস’-এ। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে বসার পর থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ‘অবৈধ’ ভাবে বসবাসকারীদের তাড়াতে উদ্যত হয়েছেন। পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কে দোষারোপ করে বলেছেন, পূর্বসূরি প্রশাসনের উদাসীনতার জন্যই আমেরিকায় জাঁকিয়ে বসেছে অপরাধী, মানসিক বিকারগ্রস্ত ও মাদক ব্যবসায়ীরা।

হোয়াইট হাউসের তথ্য বলছে প্রেসিডেন্ট পদে ট্রাম্প আসার পর প্রায় ৩৭,৬৬০ জন্য অবৈধ বসবাসকারীদের আমেরিকা ছাড়া করেছে প্রশাসন।

Leave a comment