কাশ্মীরে পেহেলগামে নালকীয় জঙ্গি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের ৯ টি জঙ্গিঘাটিতে ‘অপারেশন সিন্দুর’ এর মাধ্যমে হামলা চালিয়েছিল ভারতীয় সশস্ত্রবাহিনী। এর পর ভারত পাক সংঘাত অ্রমশ যুদ্ধের আকার নিতে আরম্ভ করে। প্রত্যেকবার হামলা করলেও ভারতীয় সেনার জবাবে পর্যদুস্ত হতে থাকে পাকিস্তান। এরপর এক সময় ভারতকে থামানোর জন্য রাষ্ট্রসংঘের দ্বারস্থ হয় পাকিস্তান।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প দাবি করেন তাঁর কথাতেই নাকি ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এরপর একটার পর একটা বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনকে। তা সত্ত্বেও কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে আবার একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিল ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্পের উপদেষ্টা বোর্ডে নাম উঠল ইসমাইল রোয়ার ও শেখ হামজা ইউসুফ নামক দুই প্রাক্তন জঙ্গির। হোয়াইট হাউস সূত্রের খবর অনুযায়ী ধর্মীয় ও জনপ্রতিনিত্ব মূলক পদ পেয়েছে তারা‌।

বর্তমানে ইসমাইল রোয়ার ‘রিলিজিয়াস ফ্রিডম ইনস্টিটিউট’-এর ইসলাম অ্যান্ড রিলিজিয়াস ফ্রিডম অ্যাকশন টিমের পরিচালক এবং হামজা ইউসুফ হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম স্বীকৃত মুসলিম লিবারেল আর্টস কলেজ ‘জেইতুনা কলেজ’-এর কো-ফাউন্ডার।

এই বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন ডানপন্থী ও ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ লারা লুমার। এই নিয়োগ কে ‘উন্মাদনা’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রেনডেল রোয়ার পরে ইসলাম গ্রহণ করে নিজের নাম পাল্টে রাখে ইসমাইল রোয়ার। ২০০৪ সালে মারৃকিন আদালতে সন্ত্রাসবাদে যুক্ত থাকার অভিযোগে দোষী সব্যস্ত করা হয় তাকে। ‘ভার্জিনিয়া জিহাদি নেটওয়ার্ক’ নামক একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল সে এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ও লস্কর ই তৈয়বা-কে সাহায্য করত বলে অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

রোয়ার নিজে স্বীকারোক্তিতে জানায় যে সে চারজনকে লস্কর-ই-তৈয়বার একটি ক্যাম্পে পাঠাতে সাহায্য করে। যেখানে সেমি অটোমেটিক ওয়েপন চালানো সহ না না জঙ্গি প্রশিক্ষণ করানো হত। এছাড়াও ইব্রাহিম আহমেদ আল-হাদিমকে সে ঐ ক্যাম্পে পাঠায় যেখানে সে রকেট চালিত গ্রেনেডের প্রশিক্ষণ নেয় ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্যে। মার্কিত আদালতে ২০ বছর সাজা ঘোষণা হলেও ১৩ বছর পর ছাড়া পায় রোয়ার।

ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ লুমারের দাবি, হামজা ইউসুফও জিহাদি ভাবধারায় বিশ্বাসী। তার কলেজ জেইতুনাতে শরিয়া আইন পড়ানো হয় বলেও অভিযোগ করেন লুমার।

এই নিয়োগ দুটিকে কেন্দ্রকরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে আমেরিকার রাজনীতিতে। এরফলে খোদ আমেরিকার মানুষই ভুগছে নিরাপত্তাহীনতায় বলেই সূত্রের খবর।

Leave a comment