২২ এপ্রিল পেহেলগামে ভায়াবহ জঙ্গি হামলার প্রতিশোধ নিতে ভারতীয় সশস্ত্রবাহিনী গত মঙ্গলবার অপারেশন ‘সিন্দুর’ এর মাধ্যমে হামলা চালায় পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানের ৯ টি জঙ্গি ঘাটিতে। এর পর সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে পাকিস্তান ও হামলা চালানোর চেষ্টা করে ভারতের অমৃতসর, শ্রীনগর, বারামুল্লা, কাঠুয়ার মতন কিছু জায়গায়। সেই আরমণ প্রতিরোধ করে ভারতীয় সেনা জবাব দেয় পাকিস্তানকে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি ও ক্ষতিগ্রস্থ হয় ভারতীয় সেনার জবাবে।

এর পরেই সিজ় ফায়ারের অনুরোধ জানিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দু দেশের মধ্যস্থতায় এগিয়ে এলে দু-পক্ষ থেকেই সিজ় ফায়ারের সম্মতি জানায়। কিন্তু ওদিকে চিন থেকে সহায্যের বার্তা আসতেই সিজ় ফায়ারের তিন ঘন্টার মধ্যেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পাকিস্তান। আবার জবাব দেয় ভারত। এখনও পর্যন্ত পাওয়া শেষ খবর অনুযায়ী সীমান্তে উত্তেজনার পারদ চড়ছে।

এই আবহে জেনে রাখা দরকার সামরিক শক্তিতে কতটা এগিয়ে ভারত।

১৪.৫৫ লাখ সেনা রয়েছে ভারতের যা দ্বিতীয় বৃহত্তম। টি-৯০, ভীভ, অর্জুনের মতন ৪,৬১৪ টি ট্যাঙ্ক, ১.৫১ সাঁজোয়া গাড়ি, ৩,২৪৩ টা কামান রয়েছে ভারতের। এর সঙ্গে রয়েছে পিনাকা রকেট লঞ্চার ও ব্রহ্মস মিসাইলের মত সরঞ্জাম। যার জন্য ভারত সামরিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট শক্তিধর হিসেবে পরিচিত। বায়ুসেনার ক্ষেত্রে ১.৬৫ লক্ষ কর্মী ও ২,২২৯ বিমান রয়েছে ভারতের। এছাড়াও সুখোই, তেজস ও রাফেলের মতন ফাইটার জেট রয়েছে ৬০৬ টি। ৮৬৯ টি হেলিকপ্টার ও ৪০ টি আক্রমনাত্মক হেলিকপ্টারও রয়েছে। এছাড়াও এস-৪০০ -র মত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও এমকিউ ৯বি ড্রোন রয়েছে ভারতীয় বায়ু সেনায়। ভারতের নৌসেনাও যথেট সম্বৃদ্ধ। বর্তমানে ৬৭,০০০ নৌসেনা ও ২৯৪টি জাহাজ রয়েছে। এরমধ্যে আইএনএস বিক্রমাদিত্য, বিক্রান্তের মত ২টি এয়ারক্রাফট বাহক। আরিহান্তের মত নিউক্লিয়ার ১৮ সাবমেরিন ও ব্রহ্মস মিসাইল রয়েছে। নৌসেনার জাহার মারতেই তৈরি হয়।

সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বলতে ৫.৬০ লাখ সেনা, ৩,৭৪২টি ট্যাঙ্ক, ৫০,৫২৩ টি সাঁজোয়া গাড়ি রয়েছে। মিসাইলের মধ্যে রয়েছে বাবর, শাহীন যা ভারতের কাছে কিছুই নয়। বায়ু সেনায় রয়েছে মাত্র ৭০,০০০ কর্মী, ১,৪৩৪ টি বিমান, এফ-১৭, জেএফ-১৬ এর মত ৩৮৭ টি ফাইটার জেট, ৩৫২ টি হেলিকপ্টার ও ৫৭ টি আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার। এছাড়াও পাকিস্তানের কাছে রয়েছে চিন থেকে আনা কিছু ড্রোণ ও এইচকিউ-৯ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম যা ভারতের কাছে খুবই দূর্বল। নৌসেনার কথা বলতে গেলে, মাত্র ৩৫,০০০ কর্মী ও ১১৪টি জাহাজ নৌবাহিনী নিয়ে পাকিস্তানের নৌসেনা গঠিত। যেখানে নেই কোনও এয়ারক্রাফট বাহক। চীন থেকে আনা মিসাইল হার্পুন ও বাবর রয়েছে পাকিস্তানের।

Leave a comment