দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি নিজের বাড়িতে কাঁড়ি কাঁড়ি পোড়া টাকা সহ ধরা পড়েছিলেন। এরপরেই বিচারবিভাগীয় স্বচ্ছতা রাখতে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে বিচারপতিদের সম্পত্তির হিসেব নিকেষ।

সোমবার রাতে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে বিচারপতিদের সম্পত্তির খতিয়ান। সেখানে এফডি থেকে PPF, শেয়ারবাজার থেকে বাড়ি-ফ্ল্যাট, বিচারপতিদের যাবতীয় ইনভেস্টমেন্টের তথ্যও রয়েছে।

বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার সম্পত্তির হিসেব পিওয়া গিয়েছে সেখানে। ৫৫.৭৫ লক্ষ টাকার ফিক্সড-ডিপোজিট ও ১.০৬ কোটি পিপিএফ রয়েছে তাঁর। দক্ষিণ দিল্লিতে 2BHK এবং কমনওয়েলথ গেমস ভিলেজে রয়েছে 4BHK ফ্ল্যাট।

সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার স্ত্রীর একটি ফ্ল্যাট রয়েছে গুরুগ্রামে সেখানেও ৫৬ শতাংশ মালিকানা রয়েছে বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার।

বিচারপতি বি আর গাভাই -এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১৯.৬৩ লক্ষ টাকার এফডি ও ৬.৫৯ লক্ষ টাকার পিপিএফ। মহারাষ্ট্রের অমরাবতী উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া একটি বাড়ি থাকার পরেও দিল্লি ও মুম্বাই তে রয়েছে একটি করে ফ্ল্যাট। এরপরেও ১.৩ কোটি টাকার লোন নিয়েছেন তিনি।

সামনেই রিটায়ার করবেন এএস ওকার। তার ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে ২১.৬৭ লক্ষ টাকার এবং পিপিএফ রয়েছে ৫.১ লক্ষ টাকার।

বিচারপতি বিক্রম নাথের দেড় কোটি টাকার বিনিয়োগ সহ নয়ডায় একটি 2BHK ফ্ল্যাট রয়েছে।

বিচারপতি সূর্যকান্তের তিনটি বাড়ি রয়েছে গুরুগ্রাম, দিল্লি ও চন্ডিগড়ে। সুদ সহ ৬.০৩ কোটি টাকার ৩১ টি ফিক্সড ডিপোজিটের মালিক এই বিচারপতির সঙ্গে তাঁর স্ত্রীরও যৌথ মালিকানা রয়েছে সম্পত্তিগুলিতে।

বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদীর বাড়ি রয়েছে আহমেদাবাদে। সেখানে একটি নির্মীয়মান বাড়িও রয়েছে। বিনিয়োগ হিসেবে রয়েছে ৬০ লক্ষ টাকার মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও আমানত রয়েছে ২০ লক্ষ টাকা। ৫০ লক্ষ টাকার গহনাও রয়েছে। এছাড়াও মারুতি সুইফট ডিজায়ার গাড়ি রয়েছে তাঁর যেটি ২০১৫ সালে কেনা।

বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়ার কাছে ২০০৮ সালের রয়েছে মারুতি জেন এস্টিলো গাড়ি। এছাড়াও দেহরাদূণে রয়েছে আরও একটি গাড়ি।

বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের শেয়ার বাজারে রয়েছে মোটা বিনিয়োগ। মারত পেট্রোলিয়াম, ভারতি এয়ারটেল, HCL, HDFC, Infosys, NMDC, Oceltra Greentech, Reliance, Solara Active Pharma Sciences, SBI, Steel Authority of India, Tata Communications, TCS, Tata Motors, Vedanta Ltd, Jio Fianance, Vijaya Diagnostic Centre, ITC Hotel, NMDC Steel Ltd-এর শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন।

বিচারপতির আসনে বসার আগেই সফল আইনজীবী ছিলেন কে বি বিশ্বনাথন। ২০২৩ সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হন। মোট ১২০.৯৬ কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে তাঁর। ২০১০-১১ ও ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে ৯১.৪৭ কোটি টাকার আয়কর দিয়েছিলেন তিনি।

Leave a comment