গত ২২ এপ্রিল পেহেলগামের বৈসরণ উপত্যকায় পরৃযটকদে্য ওপর আচমকাই গুলি চালায় জঙ্গিরা। ২৬ জন নিহত ও ১৭ জন আহত হয় সেই জঙ্গি হামলায়। ঐ ২৬ জনের মধ্যে একজন কাশ্মীরি যুবকও রয়েছেন। এরপরেই ভারত পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে ক্রমাগত। দেশের বিভিন্ন জায়গায় সেনা মহড়া শুরু হয়। শেষমেষ রার সংঘের দ্বারস্থ হয় পাকিস্তান। এবার গোটা দেশজুড়ে মক ড্রিলের নির্দেশ কেন্দ্রের।
ইতিমধ্যেই পাকিস্তানি সার্ক ভিসা বাতিল থেকে শুরু করে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করেছে ভারত। পাকিস্তানের জন্য ভারতীয় আকাশ সীমাও বন্ধ করা হয়েছে। আটারি-ওয়াঘা সীমান্তও বন্ধ। এবার পাকিস্তানকে প্রত্যাঘাত করার জন্য, রাজ্যে রাজ্যে সিভিল ডিফেন্সের মাধ্যমে ‘মক ড্রিল’ করানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।
কী এই মক ড্রিল?
এটি মূলত যুদ্ধের আগে অনুশীলনের একটি অংশ। যুদ্ধ লাগলে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র বা বিমান হামলা থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বেসামরিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি হিসেবে এই অনুশীলধ করা হয়। এই মহড়ার মাধ্যমে আপাৎকালীন ব্যবস্থা কতটা মজবুত তা বোঝা যায়। এছাড়াও এই মহড়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগনের সুরক্ষা ব্যবস্থা ও প্রতিরোধের দক্ষতাও পরীক্ষা করা হয়। হোমগার্ড, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং এমনকি জেলাশাসকরাও অংশ নেবেন এই ড্রিলে।
৭ মে তে কী হতে পারে?
আগামীকাল অর্থাৎ ৭ মে সিভিল ডিফেন্সকে মক ড্রিল করানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। এমনকি এয়ার রেড সাইরেন থেকে ব্ল্যাক আউটের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশও জারি করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার পর চলছে চিরুনি তল্লাশি। সেনাবাহিনীর সঙ্গে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপও, উপত্যকার বিভিন্ন কোণায় মক ড্রিল চালাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী।

১৯৭১ সালেও ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় এই ধরণের মহড়ার নির্দেশ দিয়েছিলো তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্যই এই মক ড্রিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী আসলে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষ নিজেদের আত্মরক্ষা করার ক্ষেত্রে কী কী করবে, তা শেখানোর জন্য রাজ্যকে মক ড্রিলের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।
সাধারণ নাগরিকদেরও এবার মক ড্রিলের জন্য তৈরি করতে রাজ্যগুলিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে যে বিমান হানার সময় সাইরেন ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হবে।
আচমকা হামলা ক্ষেত্রে কীভাবে সাধারণ মানুষ আত্মরক্ষা করবে শেখাতে হবে,সাধারণ মানুষদের যেকোনও মুহূর্তে ব্ল্যাক আউটের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বিশেষ বিশেষ কারখানা, সংস্থাকে বাঁচাতে ক্যামোফ্লেজের প্রস্তুতি নিতে হবে। এবং হামলা হলে মুহূর্তের মধ্যে এলাকার খালি করতে মক ড্রিলের নির্দেশ দেওয়া হবে।

Leave a comment